ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬ , ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুকি-চিনের নাথান বমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ০৮-১০-২০২৬ ০২:৪২:৩৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৮-১০-২০২৬ ০২:৪২:৩৮ অপরাহ্ন
কুকি-চিনের নাথান বমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা
নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) ৪০ হাজার সেট সামরিক ধাঁচের ইউনিফর্ম তৈরিতে অর্থায়ন ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে সংগঠনটির প্রধান নাথান বমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বুধবার (৭ অক্টোবর) চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

সিআইডি জানিয়েছে, কেএনএফের ইউনিফর্ম তৈরির কাপড় ও সেলাইয়ের জন্য মোট ১ কোটি ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত ৭ অক্টোবর চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় মামলাটি করা হয়।

মামলায় নাথান বম ছাড়াও মংহলাসিন মারমা ওরফে মং, নিয়াজ হায়দার, মো. গোলাম আজম, সাহেদুল ইসলাম, মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, জামালুল ইসলাম, মো. তৌহিদুল ইসলাম ও মো. মতিউর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

যেভাবে সামনে আসে ইউনিফর্ম তৈরির তথ্য

সিআইডি জানায়, ২০২৫ সালের ১৮ মে রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) একটি বিশেষ দল বায়েজিদ বোস্তামী থানার মোজাফফরনগর আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে কেএনএফের পোশাক তৈরির সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করে।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হালিশহর থানার ছোটপুল এলাকার দুটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে আটক করা হয়।

পরে তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি গোডাউন ও একটি পোশাক কারখানায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ২০ হাজার ৩০০ সেট চার রঙের ক্যামোফ্লেজ ইউনিফর্ম উদ্ধার করা হয়।

এর মধ্যে গোডাউন থেকে ১১ হাজার ২০০ সেট এবং কারখানা থেকে ৯ হাজার ১০০ সেট ইউনিফর্ম জব্দ করা হয়। প্রতিটি সেটে ছিল একটি শার্ট ও একটি প্যান্ট।

এ ঘটনায় বায়েজিদ বোস্তামী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। পরে ইউনিফর্ম তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডি।

যেভাবে লেনদেনের তথ্য পায় সিআইডি

সিআইডির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যাংক হিসাব, চেক, নগদ অর্থ প্রদান, ক্রয়াদেশ, ব্যবসায়িক পরিচয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করে অর্থের উৎস ও প্রবাহের তথ্য অনুসরণ করা হয়েছে।

সিআইডির অনুসন্ধান অনুযায়ী, কেএনএফের প্রতিনিধি হিসেবে মংহলাসিন মারমা ওরফে মং প্রথমে নিয়াজ হায়দারের সঙ্গে এবং পরে তার মাধ্যমে গোলাম আজমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর তারা ওয়েল কম্পোজিট নিট লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কেএনএফের ইউনিফর্মের ক্যামোফ্লেজ প্রিন্টের কাপড় তৈরির ব্যবস্থা করেন।

সিআইডির দাবি, মংহলাসিন মারমা নিজেকে এমআই এন্টারপ্রাইজের সহকারী বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক হিসেবে পরিচয় দিয়ে ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর ও ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দুটি ক্রয়াদেশ দেন। এসব কাজের বিপরীতে ওয়েল কম্পোজিট নিট লিমিটেডকে মোট ৯০ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, কেএনএফের ৪০ হাজার সেট ইউনিফর্মের শার্ট ও প্যান্ট সেলাইয়ের জন্য মংহলাসিন মারমার নির্দেশনায় নিয়াজ হায়দার ও গোলাম আজম তাদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে রিংভো অ্যাপারেলস, এনএন ফ্যাশন ও নূর ফ্যাশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে জানিয়েছে সিআইডি।

এ কাজের জন্য প্রতিষ্ঠান তিনটিকে মোট ৭২ লাখ টাকা দেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে ইউনিফর্মের কাপড় তৈরিতে ৯০ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং সেলাইয়ের জন্য ৭২ লাখ টাকা—মোট ১ কোটি ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা লেনদেনের তথ্য পেয়েছে সিআইডি।

নাথান বমের নির্দেশনায় অর্থায়নের অভিযোগ

সিআইডির অনুসন্ধানে পাওয়া নথি ও সাক্ষীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে কেএনএফের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নাথান বমের নির্দেশনায় মংহলাসিন মারমাসহ অন্য আসামিরা পারস্পরিক যোগসাজশে সংগঠনটির জন্য বিপুল পরিমাণ ইউনিফর্ম তৈরির উদ্যোগ ও অর্থায়ন করেছেন বলে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

সিআইডি বলছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের কার্যক্রমে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এসব ইউনিফর্ম তৈরি করা হয়েছে। এ জন্য অর্থের হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থের প্রকৃত উৎস গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

অর্থের উৎস ও নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখছে সিআইডি

মামলার তদন্তে কেএনএফের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য অর্থের উৎস ও প্রবাহ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব এবং অন্যান্য আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

এ ছাড়া অর্থ প্রদানের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং এই আর্থিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত অন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা শনাক্তে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচকে/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ